ভেটকি মাছ সম্পর্কে যাবতীয়, Details about Bhetki Fish in Bengali

ভেটকি মাছ সম্পর্কে যাবতীয়

🏆 আজকের ফ্রি বাংলা কুইজ খেলুন এবং Gift Voucher পুরস্কারের জেতার সুযোগ নিন।

Play Now Opens in a new tab.

ভেটকি বাঙালিদের মধ্যে অতি পরিচিত একটি মাছ। মাছের বাজারে গেলে কমবেশি সারা বছরই এই মাছ চোখে পড়ে। অনেকেরই প্রিয় মাছ এটি। তার কারণ এটি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। তাছাড়া এই মাছ দিয়ে নানা রকম পদ রান্না করা যায়। বাড়িতে কখনো ঝাল তরকারি, আবার কখনো পাতুরি। এক কথায় বাঙালির ঘরে এই মাছের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।


কিন্তু এই মাছ খেলে কী হয়? এর পুষ্টিগুণ কতটা? এসব বিষয় কি কখনও খোঁজ নিয়েছেন? না নিয়ে থাকলে আজকের এই প্রতিবেদন শেষ অবধি পড়ুন।

ভেটকি মাছের বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস, Scientific classification of Bhetki fish :

জগৎ: Animalia

পর্ব: Chordata

শ্রেণী: Actinopterygii

বর্গ: Perciformes

পরিবার: Latidae

গণ: Lates

প্রজাতি: L. calcarifer

ভেটকি মাছের বর্ণনা, Description of Bhetki fish :

ভেটকি মাছ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া যায়। এই মাছ অঞ্চল বিশেষে Sea bass এবং অস্ট্রেলিয়ায় বারামুণ্ডি (ইংরেজি: Barramundi) নামে পরিচিত। বাংলাদেশে ও ভারতে এই মাছ কোরাল ও ভেটকি এই দুই নামে পরিচিত।

ভেটকি মাছের পুষ্টি গুণাগুণ
Pin it

অন্যদিকে বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ একে পাতাড়ি মাছও বলে। ভেটকি সাধারণত লম্বাটে ও চাপা ধরনের হয়। এদের নিচের চোয়াল উপরের চোয়ালের চেয়ে কিছুটা বড় আকারের হয়ে থাকে। এই মাছের পিঠের দিকটা কিছুটা সবুজ রঙের এবং পেটের দিক রুপালি রঙের হয়।

ভেটকি মাছের বিস্তৃতি, In which country is Bhetki fish available?

ভেটকি মাছ হল মিষ্টি জলের মাছ। এটি ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয়, বাংলাদেশ, চীন, তাইওয়ান, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং পাপুয়া নিউগিনি প্রমুখ অঞ্চলে পাওয়া যায়। তাছাড়া এশিয়ার উত্তরাঞ্চল, কুইন্সল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল এবং পূর্ব আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলেও এই মাছ বিস্তৃত।

ভেটকি মাছের পুষ্টি গুণাগুণ, Nutritional value of Bhetki fish :

ভেটকি মাছে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যেগুলি শরীরের উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। আট থেকে আশি, সকলেই এই মাছ খেলে উপকার পাবেন।

এ মাছে আছে উন্নতমানের ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড, যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও, হৃদরোগের ঝুঁকি কম করে দেয় এবং রক্তের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

ভেটকি মাছে ভিটামিন A, B এবং D রয়েছে, পাশাপাশি খনিজ পদার্থ, ক্যালসিয়াম, জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, ম্যাগনিসিয়াম এবং সিলেনিয়ামও যথেষ্ট পরিমাণে থাকে। বলাই বাহুল্য যে, উক্ত উপাদানগুলো আমাদের শরীর গঠন ও বৃদ্ধির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ভেটকি মাছে ফ্যাট বা স্নেহজাতীয় পদার্থের পরিমাণ অত্যন্ত কম। স্যাচুরেটেড ফ্যাট নেই। কোলেস্টেরলের পরিমাণ মাত্র ৭০ মিলিগ্রাম। তাই ব্যালান্সড ডায়েটে রাখতেই পারেন এই মাছ।

ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার ভেটকিমাছ। এই উপাদানটি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগ, ক্যানসার এবং অন্যান্য মস্তিষ্কের অসুখের আশঙ্কা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

এই মাছের কিছু উপাদান দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করতে এবং গাঁটের ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে। তাই সব মিলিয়ে ভেটকিকে মহৌষধি হিসাবেও ধরা হয়।

ফ্যাটি অ্যাসিডের গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার ভেটকিমাছ
Pin it

কিছু কিছু নিউরোলজিস্ট- এর ধারণা অনুযায়ী, যদি ছোট বেলা থেকে ভেটকি মাছ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন, তবে তা বাচ্চাদের মানসিক বিকাশ ঘটাতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভেটকি মাছের চাষ পদ্ধতি, Bhetki Fish farming method :

ভেটকি মাছের কাঁটা কম, তাই দেশে-বিদেশে এর চাহিদা প্রচুর। এর কারণ অনেকেই আছেন যারা কাঁটার ভয়ে মাছ খেতে চান না। কিন্তু খেতে সুস্বাদু এবং কম কাঁটা যুক্ত এই মাছ অনেকেরই পছন্দের তালিকায় আছে। বলাই বাহুল্য যে, উপকূলীয় অঞ্চলে ভেটকি চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে স্বাদুপানি এবং উপকূলীয় অঞ্চলের আধা-লবণাক্ত ও লবণাক্ত জলে ভেটকি চাষ করা যায়। অন্যদিকে, দেশে ও বিদেশে এই মাছের প্রচুর চাহিদা থাকার কারণে এর উৎপাদন ও রপ্তানির সুযোগও ক্রমে বেড়েই চলছে।

ভেটকি মাছ লবণাক্ততা সহিষ্ণু হওয়ার ফলে এটি নদী, নদীর মোহনা এবং উপকূলীয় এলাকার জলাভূমিতে খুব সহজেই চাষ করা যায়। মাছগুলো সহজেই জলে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

তাছাড়া এদের বেশি ঘনত্বেও চাষ করা যায়। অন্যদিকে ভেটকির বৃদ্ধির হারও বেশি হয়। প্রতি ৬ মাস থেকে ২ বছরের মধ্যে এদের প্রতিটির ওজন ৩৫০ গ্রাম থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত হয়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে এ মাছের চাহিদা বেশি, তাই বর্তমান সময়ে বিভিন্ন স্থানে যেমন বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট প্রমুখ অঞ্চলে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এর চাষ হচ্ছে।

ভেটকি মাছের প্রজনন, Breeding of Bhetki :

ভেটকি মাছের প্রজনন
Pin it

ভেটকি সারা বছর ডিম পাড়ে। তাই প্রায় সারাবছর এগুলো বাজারে দেখা যায়। তবে এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস এদের মূল প্রজননকাল হিসেবে বিবেচিত হয়। এ সময় নদী বা জলাশয় থেকে এক সেন্টিমিটার আকারের অনেক পোনা ধরা পড়ে।

প্রজননের বিষয়টা আরেকটু খোলসা করে বলতে গেলে, বর্ষার শুরুতে পুরুষ ভেটকি স্ত্রী ভেটকির সাথে মিলেনের জন্য নদ-নদীর নিম্ন অববাহিকায় আসে। ভরা পূর্ণিমা এবং অসাবস্যার শুরুতে জোয়ারের জল আসার সময় ৫ কেজি থেকে ১০ কেজি ওজনের প্রতিটি স্ত্রী ভেটকি ২১ লাখ থেকে ৭১ লাখ পর্যন্ত ডিম পাড়ে।

তারপর এই ডিমগুলো এবং রেণু পোনা জোয়ারের জলে ভেসে নদীর মোহনায় চলে আসে। রেণু পোনাগুলো মোহনা থেকে ক্রমে নদীর উচ্চ অববাহিকার দিকে ভেসে আসে। পরে এগুলো যখন পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় পৌঁছায় তখন সেগুলো আবার ডিম পাড়ার জন্য সাগরের দিকে ফিরে যায়।

ভেটকি মাছের একটা অসাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, বেশির ভাগ মাছ পুরুষ মাছ হিসেবে প্রাপ্ত বয়স্ক হলেও যদি স্ত্রী মাছের প্রাপ্যতা কম থাকে তবে একটি প্রজনন ঋতুর পর তারা লিঙ্গ পরিবর্তন করে নিয়ে স্ত্রী মাছ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

ভেটকির পোনাদের প্রাকৃতিক উৎস হল সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, এদের নদীর মোহনায় সংগ্রহ করা গেলেও বছরের বিভিন্ন সময় এগুলো একই পরিমাণ পাওয়া যায় না। তাই ভেটকি চাষাবাদে বাধা পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

তাছাড়া প্রাকৃতিকভাবে যদি পোনা কম পাওয়া যায় তবেই এ মাছের চাষ ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। এক্ষেত্রে কৃত্রিমভাবে পোনা উৎপাদন একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

১৯৭১ সালে থাইল্যান্ডে ভেটকি মাছের কৃত্রিম প্রজনন শুরু হয়। তারপর বদ্ধ পরিবেশে হরমোন ব্যবহারের মাধ্যমে ১৯৭৩ সালে ভেটকি মাছের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য অর্জিত হয়। ১৯৮১ সালে বিজ্ঞানীরা কৃত্রিমভাবে পোনা উৎপাদনে সফল হন।

আজকাল বাংলাদেশেও ভেটকি মাছের কৃত্রিম প্রজনন করা হচ্ছে। এমনকি মাছের পোনা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রিও করা হচ্ছে। ভেটকি মাছ মূলত জীবন্ত মাছ ও চিংড়ি খেয়ে জীবন ধারণ করে। কিন্তু কৃত্রিম প্রজননের ক্ষেত্রে তাদের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে এদের সম্পূরক খাদ্যে অভ্যস্ত করা হয়।

ভেটকি মাছের চাষ পদ্ধতি
Pin it

ভেটকি মাছের বৈশিষ্ট্য, Features of Bhetki :

  • ভেটকি মাছ সাধারণত 60-120 সেন্টিমিটার লম্বা হয়।
  • ভেটকির পিঠের দিক সাধারণত গাঢ় ধূসর বা নীলাভ-সবুজ রঙের হয়, যা ক্রমশ পেটের দিকে রূপালী হয়ে যায়।
  • ভেটকির মাথা বড় ও চওড়া, মুখ প্রশস্ত এবং নিচের চোয়াল উপরের চোয়ালের তুলনায় বেশি লম্বা।
  • ভেটকির গায়ে বড় ও শক্ত আঁশ থাকে।
  • ভেটকির পিঠের পাখনাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত – সামনের অংশে কাঁটাযুক্ত ও পেছনের অংশ নরম থাকে। এছাড়া এদের বুকের, পেটের ও লেজের পাখনা রয়েছে।

ভেটকি মাছের পাতুরি, Bhetki macher Paturi :

উপকরণ :

  • 8 টা ভেটকি মাছ
  • 1/2 কাপ নারকেল কোরা
  • 2.5টেবিল চামচ সর্ষে গুঁড়ো বা বাটা
  • 2.5টেবিল চামচ পোস্তদানা বাটা
  • 4 টে কাঁচা মরিচ
  • 1/2 চা চামচ হলুদ গুঁড়ো
  • 1 চা চামচ লেবুর রস
  • 1 চা চামচ রসুন কুচি
  • স্বাদ মত নুন
  • পরিমাণ মত তেল

রান্নার নির্দেশ :

  • মাছ গুলো ধুয়ে নুন হলুদ ও লেবুর রস দিয়ে দিয়ে মেখে নিন।
  • এবার নারকেল কোরা,সর্ষে, পোস্তদানা, রসুন কুচি,কাঁচা মরিচ দিয়ে ভালো করে বেটে রেখে দিন।
  • এবার মাছে ঐ বাটা দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে কলাপাতা দিয়ে মুড়ে সুতো দিয়ে বেঁধে দিন।
  • কড়াই এ তেল গরম করে তাতে পাতুরি দিয়ে ভালো করে সেঁকে নিন কম আঁচে ঢাকনা দিয়ে এবং তুলে পরিবেশন করুন।

ভেটকি মাছের কালিয়া রেসিপি, Bhetki macher Kalia recipe :

ভেটকি মাছের কালিয়া
Pin it

উপকরণ :

  • ৪ টুকরো ভেটকি মাছ
  • ১ কাপ পিয়াঁজ বাটা
  • ৪ কোয়া রসুন (বাটা)
  • ১ টি টমেটো কুচি
  • স্বাদ অনুযায়ী নুন
  • ২ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো
  • ১ চা চামচ আদা বাটা
  • ২ চা চামচ জিরে বাটা
  • ১ চা চামচ কাশ্মীরি লাল লঙ্কা গুঁড়ো
  • ৪-৫ টি কাঁচা লঙ্কা
  • ১/২ চা চামচ গরম মসলা গুঁড়ো
  • ১ চা চামচ ঘি
  • ১ কাপ উষ্ণ গরম জল
  • ৪ টেবিল চামচ সরষের তেল

ফোড়নের জন্য উপাদান :

  • ১ টি তেজ পাতা
  • ১/২ চা চামচ গোটা জিরা
  • ১ টি শুকনো লঙ্কা
  • ৩-৪ টি এলাচ
  • ৩-৪ টি লবঙ্গ
  • ১.৫ ইঞ্চি দারচিনি

রান্নার নির্দেশ :

  • মাছগুলোকে ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন।
  • তারপর নুন আর হলুদ দিয়ে মেখে ১০ মিনিট রেখে দিন।
  • এবার কড়াইতে ২ টেবিল চামচ তেল গরম করে মাছগুলোকে হালকা ভেজে তুলে রাখুন।
  • এবার কড়াইতে বাকি ২ টেবিল চামচ তেল গরম করে গোটা জিরা, তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, এলাচ, লবঙ্গ আর দারচিনি ফোড়ন দিয়ে নাড়ুন। ফোড়ন থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোতে শুরু করলে তাতে পিয়াঁজ বাটা,রসুন বাটা আর অল্প নুন অ্যাড করে ৩-৪ মিনিট ভাজা করুন।
  • তারপর জিরে বাটা,আদা বাটা,হলুদ গুঁড়ো,পরিমাণ মত নুন আর লঙ্কা গুঁড়ো যোগ করে দিন।
  • এবার টমেটো কুচি আর ২ টেবিল চামচ মত উষ্ণ গরম জল যোগ করে ভালো করে মসলা কষিয়ে নিন।
  • মসলা কষে শুকিয়ে এলে পরিমাণ মত জল,কাঁচা লঙ্কা আর প্রয়োজন হলে নুন দিতে ঝোল ফুটতে দিন।
  • ঝোল ফুটে উঠলে মাছ যোগ করে ঢাকা দিয়ে মাঝারি আঁচে ১০-১২ মিনিট রান্না করুন।
  • গ্রেভি পছন্দের ঘনত্বে চলে এলে ঘি আর গরম মসলা গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে ১-২ মিনিট রান্না করে গ্যাস বন্ধ করে নামিয়ে নিন।
  • পোলাও বা গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন সুস্বাদু ভেটকি মাছের কালিয়া।

ভেটকি মাছের কাঁটা চচ্চড়ি, Bhetki macher kata chochchori:

ভেটকি মাছের কাঁটা চচ্চড়ি
Pin it

উপকরণ :

১ কেজি ভেটকি মাছের কাঁটা
৬০০ গ্ৰাম পেঁয়াজ
২ টি তেজপাতা
৪ টি শুকনো লঙ্কা
১.৫ চা চামচ আদা বাটা
২ চা চামচ রসুন বাটা
৩ চা চামচ পেঁয়াজ বাটা
২চা চামচ জিরে গুঁড়ো
২ চা চামচ ধনে গুঁড়ো
১ চা চামচ লঙ্কা গুঁড়ো
১/২ চা চামচ গরম মসলা গুঁড়ো
১/৪ চা চামচ চিনি
১.৫ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো
পরিমাণ মত সর্ষের তেল
স্বাদ মত নুন

রান্নার নির্দেশ :

  • প্রথমে ভেটকি মাছের কাঁটা খুব ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিতে হবে।
  • ২ টি পিঁয়াজ বেটে নিয়ে বাকি পিঁয়াজ কুচিয়ে নিতে হবে।
  • এবার একটি কড়াই গরম করে তাতে পরিমাণ মতো সরষের তেল দিয়ে,তেল গরম হলে এর মধ্যে ভেটকি মাছ দিয়ে দিতে হবে।
  • এবার এতে ১ চামচ হলুদ গুঁড়ো ও পরিমাণ মতো নুন দিয়ে খুব ভালো করে ভেজে নিতে হবে।
  • একটি প্রেসার কুকারে ১কাপ জল দিয়ে, তার মধ্যে ভেজে নেওয়া মাছের কাঁটা দিয়ে, প্রেসার কুকারের ঢাকনা বন্ধ করে গ্যাস ফ্লেম বাড়িয়ে রাখুন। একটি সিটি দেওয়ার পর গ্যাসের ফ্লেম কমিয়ে রেখে আরো ১০ মিনিট রান্না করে নামিয়ে রাখতে হবে।
  • এবার একটি কড়াই গরম করে তাতে পরিমাণ মতো সরষের তেল গরম করে তাতে ২ টি তেজপাতা ও ৪ টি শুকনো লঙ্কা দিয়ে খুব ভালো করে নেড়ে চেড়ে এর মধ্যে কেটে রাখা পিঁয়াজ দিয়ে লালচে করে ভেজে নিতে হবে।
  • তারপর এতে পরিমাণ মতো নুন দিয়ে,১/২ চামচ হলুদ গুঁড়ো,৩ চামচ পিঁয়াজ বাটা,২ চামচ রসুন বাটা,১.৫ চামচ আদা বাটা,২ চামচ জিরে গুঁড়ো,২ চামচ ধনে গুঁড়ো,১ চামচ লঙ্কা গুঁড়ো,১/২ চামচ গরম মসলা গুঁড়ো,১/৪ চামচ চিনি এর মধ্যে দিয়ে খুব ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে।
  • মসলা কষানো হলে, এতে প্রেসার কুকারের সিদ্ধ করা মাছের কাঁটা ঢেলে নাড়াচাড়া করে খুব ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে।
  • কষাতে গিয়ে এর থেকে তেল ছাড়লে এবং কড়াই তে একটু লেগে লেগে গেলে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

ভেটকি মাছের অন্য নাম , Diffetent names of Bhetki :

বাংলাদেশে ভেটকি মাছ কোরাল ও ভেটকি এই দুই নামে পরিচিত। খুলনা অঞ্চলে একে পাতাড়ি মাছ বলে। ভেটকি/কোরাল মাছ এশিয়ান সিবাস নামেও পরিচিত, এই মাছ বঙ্গোপসাগরেও পাওয়া যায়।

ভেটকি মাছ কোন জলের মাছ ? Which type of water is suitable for Bhetki fish?

ভেটকি হল মিষ্টি জলের মাছ। তবে এটি লোনা জল বা কম লবণাক্ত জলেও চাষ করা হয়।

ভেটকি মাছ in English:

ইংরেজিতে ভেটকি মাছকে Barramundi বলা হয়। এছাড়াও এটি Sea Bass নামেও পরিচিত।

ভেটকি মাছ খেলে কি হয়? / ভেটকি মাছ খাওয়া কি ভালো? What happens if you eat Bhetki fish? / Is it good to eat Bhetki fish?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেটকি মাছের ভিটামিন এ, বি এবং ডি, খনিজ পদার্থ, ক্যালসিয়াম, জিংক, লৌহ, পটাসিয়াম, ম্যাগনিসিয়াম এবং সিলেনিয়াম শরীর গঠন ও বৃদ্ধির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এ মাছে উন্নতমানের আমিষ, ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড থাকে,bযা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং রক্তের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ফলে বয়স্কদের পাশাপাশি কম বয়সিদের জন্যও ভেটকি হয়ে উঠতে পারে দারুণ একটি মাছ।

ভেটকি মাছের কেজি কত? What is the price of Bhetki fish per kg?

ভেটকি মাছের দাম অঞ্চল ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণত এর দাম ১কেজি ৮০০-৯০০ টাকা।

ভেটকি মাছের ছবি, Pictures of Bhetki fish :

ভেটকি মাছের ছবি যারা অনলাইনে খোঁজ করছিলেন তাদের জন্য আমরা কিছু ছবি তুলে ধরেছি। এই ছবিগুলো দেখে আপনারা ভেটকি মাছ দেখতে কেমন সেই ধারণা নিতে পারবেন।

ভেটকি মাছের আকৃতি
Pin it
বাজারে ভেটকি মাছ
Pin it
ভেটকি মাছ চাষ
Pin it
মাছ ধরা
Pin it

শেষ কথা, Conclusion :

‘ মাছে ভাতে বাঙালি ‘ কথাটি সকলেই শুনেছেন, তাই বেশিরভাগ বাঙালির খাবারে মাছের গুরুত্ব লক্ষণীয়। যখন মাছ হয় ভেটকি, যা খেতেও সুস্বাদু এবং শরীরের জন্য উপকারী তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই।

সামুদ্রিক যেকোন মাছের স্বাদের থেকে উপকারিতা অনেক বেশি, আর ভেটকি এর ব্যতিক্রম নয়। তবে আমাদের দেশে এটি সামুদ্রিক মাছ বলে পরিচিত নয়, বরং নদী থেকেই জেলেরা এই মাছ ধরে এবং বাজারে বিক্রি করে।

সমুদ্র থেকে আসুক কিংবা নদী থেকে, পুষ্টিগুণ এর কথা ভাবতে গেলে এই মাছ অবশ্যই খাওয়া উচিত। তবে সবার ক্ষেত্রে মাছের পুষ্টি একইভাবে কাজ নাও করতে পারে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিতে পারেন।

Frequently Asked Questions

ভেটকি মাছের অন্য নামগুলো কি?

seabass, কোরাল, Barramundi ইত্যাদি।

ভেটকি মাছ ওজনে কত বড় হয় ?

প্রতি ৬ মাস থেকে ২ বছরের মধ্যে এদের প্রতিটির ওজন ৩৫০ গ্রাম থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত হয়।

ভেটকি মাছের প্রজননের সময় কখন?

এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস এদের মূল প্রজননকাল

RIma Sinha

Rima Sinha is a professional journalist and writer with a strong academic background in media and communication. She holds a Bachelor of Arts from Tripura University and a Master’s degree in Journalism and Mass Communication from Chandigarh University. With experience in reporting, feature writing, and digital content creation, Rima focuses on delivering accurate and engaging news stories to Bengali readers. Her commitment to ethical journalism and storytelling makes her a trusted voice in the field.

Recent Posts