বায়োডিজেল সম্পর্কে বিস্তারিত, Details about Biodiesel in Bengali

বায়োডিজেল সম্পর্কে বিস্তারিত

🏆 আজকের ফ্রি বাংলা কুইজ খেলুন এবং Gift Voucher পুরস্কারের জেতার সুযোগ নিন।

Play Now Opens in a new tab.

বায়োডিজেল হলো উদ্ভিদজাত তেল, প্রাণীজ চর্বি বা ব্যবহৃত রান্নার তেল থেকে তৈরি এক ধরনের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি। এটি মূলত নবায়নযোগ্য এবং প্রচলিত ডিজেলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বায়োডিজেল দহনকালে খুব কম দূষণ সৃষ্টি করে এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনও হ্রাস করে। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় এর গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।


বায়োডিজেল কি? What is biodiesel?

বায়োডিজেল হলো উদ্ভিজ্জ তেল, প্রাণীজ চর্বি কিংবা পুনর্ব্যবহৃত রান্নার তেল থেকে প্রস্তুতকৃত এক ধরনের জৈব জ্বালানি। রসায়নের ভাষায় এটি মূলত ফ্যাটি অ্যাসিড মিথাইল এস্টার (Fatty Acid Methyl Ester, FAME)। এটি নবায়নযোগ্য, পরিবেশবান্ধব এবং প্রচলিত ডিজেলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বায়োডিজেল কাকে বলে? What is biodiesel?

যে জ্বালানি উদ্ভিদ বা প্রাণীজ তেলকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় (ট্রান্সএস্টেরিফিকেশন) রূপান্তর করে তৈরি করা হয় এবং যা সাধারণ ডিজেল ইঞ্জিনে ব্যবহারযোগ্য—তাকে বায়োডিজেল বলা হয়।

ভারতে কোন গাছের বীজ থেকে বায়োডিজেল প্রস্তুত করা হয়? / বায়োডিজেল তৈরিতে ব্যবহৃত উদ্ভিদ:

বায়োডিজেল
Pin it

বায়োডিজেল তৈরিতে ব্যবহৃত প্রধান উদ্ভিদগুলো হলো—

  • জাট্রোফা (Jatropha Curcas)
  • সয়াবিন
  • সূর্যমুখী
  • রেপসিড/ক্যানোলা
  • পাম তেল
  • নারিকেল ও ভুট্টার তেল

এছাড়া শৈবাল এবং তুলাসিডের তেল থেকেও বায়োডিজেল তৈরি করা যায়।

ভারতে সাধারণত জাট্রোফা এবং করঞ্জা গাছের বীজ থেকে প্রাপ্ত তেল বায়োডিজেল উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়।

বায়োডিজেল কি থেকে তৈরি হয়? What is biodiesel made from?

পূর্বেই উল্লেখ করেছি, উদ্ভিজ্জ তেল, প্রাণীজ চর্বি এবং রান্নার ব্যবহারযোগ্য তেল থেকে বায়োডিজেল তৈরি হয়। এগুলোকে অ্যালকোহল (মিথানল বা ইথানল)-এর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এনে বায়োডিজেলে রূপান্তর করা হয়।

বায়োডিজেল কিভাবে তৈরি হয়? How is biodiesel made?

Pin it

প্রধানত ট্রান্সএস্টেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিজ্জ তেলকে অ্যালকোহলের সঙ্গে অনুঘটকের উপস্থিতিতে বিক্রিয়া করিয়ে বায়োডিজেল তৈরি করা হয়। উপজাত হিসেবে গ্লিসারল উৎপন্ন হয়, যা সাবান শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

বায়োডিজেলের ইতিহাস কি? What is the history of biodiesel?

বায়োডিজেলের ধারণা নতুন নয়। ১৮৫৩ সালে জে. প্যাট্রিক ও ই. ডাফি প্রথম উদ্ভিজ্জ তেলের ট্রান্সএস্টেরিফিকেশন করেন। পরে ১৮৯৭ সালে রুডলফ ডিজেল প্রথম ডিজেল ইঞ্জিন তৈরি করেন। ১৯০০ সালের প্যারিস প্রদর্শনীতে তার ইঞ্জিন চিনাবাদাম তেল দিয়েই চালানো হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও বিকল্প জ্বালানি হিসেবে উদ্ভিজ্জ তেলের ব্যবহার হয়েছিল। আধুনিক বায়োডিজেলের উৎপাদন শুরু হয় ১৯৩০-এর দশকে।

ডিজেল কে আবিষ্কার করেন? Who invented diesel?

ডিজেল ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন রুডলফ ডিজেল (Rudolf Diesel) ১৮৯৭ সালে। তাঁর প্রাথমিক পরীক্ষাগুলি প্রমাণ করে যে উদ্ভিজ্জ তেল কম্প্রেশন-ইগনিশন ইঞ্জিনগুলিকে শক্তি দিতে পারে, যা বায়োডিজেল গবেষণার পথ প্রশস্ত করে।

বায়োডিজেলের ইতিহাস কি?
Pin it

ভারতের কোন রাজ্য প্রথম বায়োডিজেল ব্যবহার করে? Which state in India was the first to use biodiesel?

ভারতে প্রথম বায়োডিজেল প্ল্যান্ট স্থাপিত হয় অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাডায়। এছাড়া রাজস্থান ছিল প্রথম রাজ্য যেখানে বায়োডিজেল বিষয়ক নীতি কার্যকর হয়।

ভারতে বায়োডিজেল ক্রয় করে কে? Who buys biodiesel in India?

মূলত ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOCL), ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) ও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL) সরকারী সংস্থাগুলো বায়োডিজেল ক্রয় করে।

বায়োডিজেল তৈরি করা কি বৈধ? Is it legal to make biodiesel?

ভারতে জাতীয় জৈব জ্বালানি নীতির (National Biofuel Policy) আওতায় বায়োডিজেল তৈরি ও ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে।

ভারতের প্রথম বায়ো ইথানল প্লান্ট কোনটি? Which is the first bio ethanol plant in India?

ভারতের প্রথম বায়ো ইথানল প্লান্ট কোনটি?
Pin it

ভারতের প্রথম বায়ো ইথানল প্লান্ট স্থাপিত হয় উত্তর প্রদেশে, আখ থেকে প্রাপ্ত মোলাসেসকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে।

ভারতের প্রথম জৈব শোধনাগার কোন শহরে চালু হয়? In which city was India’s first biorefinery opened?

অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাডা শহরে ভারতের প্রথম বায়োডিজেল শোধনাগার চালু হয়।

ভারতের বৃহত্তম শোধনাগার কোনটি? Which is the largest refinery in India?

ভারতের সবচেয়ে বড় শোধনাগার হলো জামনগর রিফাইনারি (Reliance Industries), গুজরাট।

Biodiesel chemical formula :

Biodiesel chemical formula
Pin it

বায়োডিজেলের নির্দিষ্ট কোনো একক সূত্র নেই। এটি আসলে Fatty Acid Methyl Ester (FAME)-এর মিশ্রণ। সাধারণভাবে সূত্রকে C₁₄H₂₈O₂ থেকে C₂₀H₄₀O₂ পর্যন্ত ধরা হয়।

Biodiesel uses :

  • পরিবহন খাতে ডিজেলের বিকল্প হিসেবে
  • জেনারেটর চালাতে
  • নৌযানে জ্বালানি হিসেবে
  • কৃষি যন্ত্রপাতিতে
  • হিটিং অয়েল হিসেবে

Biodiesel vs Diesel :

বায়োডিজেল আর পেট্রোডিজেলের মধ্যে কয়েকটা বড় পার্থক্য আছে। বায়োডিজেল তৈরি হয় উদ্ভিদ বা প্রাণীর তেল থেকে, তাই এটা নবায়নযোগ্য জ্বালানি। অন্যদিকে পেট্রোডিজেল আসে মাটির নিচে থাকা খনিজ তেল থেকে, যা শেষ হয়ে গেলে আর পাওয়া যাবে না।

Biodiesel vs Diesel
Pin it

বায়োডিজেল ব্যবহার করলে বাতাসে সালফারের পরিমাণ খুব কম যায়, ফলে দূষণ কম হয়। কিন্তু পেট্রোডিজেল বেশি সালফার ছাড়ে, যা পরিবেশের ক্ষতি করে। তবে শক্তির দিক থেকে পেট্রোডিজেল কিছুটা বেশি শক্তি দেয়, আর বায়োডিজেল তুলনামূলকভাবে একটু কম।

ইঞ্জিনের জন্য বায়োডিজেল ভালো, কারণ এতে লুব্রিকেশন বেশি থাকে, ফলে ইঞ্জিন মসৃণভাবে চলে। সব মিলিয়ে বায়োডিজেল পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর, আর পেট্রোডিজেল পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

বায়োডিজেলের সুবিধা, Biodiesel advantages :

  • নবায়নযোগ্য – টেকসই উৎস থেকে প্রাপ্ত।
  • পরিবেশবান্ধব – CO, CO₂, হাইড্রোকার্বন এবং কণার নির্গমন হ্রাস করে।
  • জৈব-পচনশীল এবং অ-বিষাক্ত – সংরক্ষণ এবং পরিচালনার জন্য নিরাপদ।
  • উন্নত তৈলাক্তকরণ – ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করে।
  • শক্তি সুরক্ষা – জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরতা হ্রাস করে।
  • উপজাত – উৎপাদনের সময় প্রাপ্ত গ্লিসারলের শিল্প মূল্য রয়েছে।
বায়োডিজেলের সুবিধা
Pin it

বায়োডিজেলের ৫টি অসুবিধা, 5 disadvantages of biodiesel:

  • কম শক্তির পরিমাণ – ডিজেলের তুলনায় প্রায় ৮-১০% কম।
  • ঠান্ডা প্রবাহের সমস্যা – বায়োডিজেল ঠান্ডা তাপমাত্রায় ঘন হয়ে যায়, যা ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
  • খাদ্য বনাম জ্বালানি বিতর্ক – ভোজ্যতেল ব্যবহার খাদ্য সরবরাহ এবং দামকে প্রভাবিত করতে পারে।
  • সংরক্ষণের স্থিতিশীলতা – বায়োডিজেল ডিজেলের তুলনায় দ্রুত জারিত এবং ক্ষয় করতে পারে।
  • উচ্চ উৎপাদন খরচ – কিছু ক্ষেত্রে, বায়োডিজেল পেট্রো-ডিজেলের তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল থাকে।

বায়োডিজেলের ভবিষ্যৎ, The future of Biodiesel :

বায়োডিজেলের ভবিষ্যৎ
Pin it

বায়োডিজেল একটি টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের দিকে জ্বালানির সেতু হিসেবে কাজ করে। শৈবাল-ভিত্তিক বায়োডিজেল এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের ফিডস্টকের অগ্রগতির সাথে সাথে, বায়োডিজেল উৎপাদনের দক্ষতা এবং অর্থনীতি উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের মতো দেশগুলিতে, যেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পায়, তেল আমদানি হ্রাস, গ্রামীণ কর্মসংস্থান তৈরি এবং পরিবেশ রক্ষায় বায়োডিজেলের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।

উপসংহার, Conclusion :

বায়োডিজেল হলো এমন এক নবায়নযোগ্য জ্বালানি যা পরিবেশবান্ধব, অবিষাক্ত এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। জাট্রোফা, করঞ্জা, সয়াবিন, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন উদ্ভিদের তেল থেকে উৎপাদন সম্ভব। যদিও এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, তবুও ভবিষ্যতে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমাতে বায়োডিজেল হবে গুরুত্বপূর্ণ সমাধান।

RIma Sinha

Rima Sinha is a professional journalist and writer with a strong academic background in media and communication. She holds a Bachelor of Arts from Tripura University and a Master’s degree in Journalism and Mass Communication from Chandigarh University. With experience in reporting, feature writing, and digital content creation, Rima focuses on delivering accurate and engaging news stories to Bengali readers. Her commitment to ethical journalism and storytelling makes her a trusted voice in the field.

Recent Posts