আমাদের শরীরের ৬০-৭০% অংশ জল দিয়ে গঠিত, তাই এটি সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জল কম পান করা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত জল পান করাও বিপজ্জনক হতে পারে।
সঠিক পরিমাণে জল পান করলে শরীর সুস্থ থাকে, কিন্তু অতিরিক্ত জল শরীরের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই জানতে হবে, কতটা জল পান করা নিরাপদ এবং কখন বেশি জল পান করা বিপজ্জনক হতে পারে।
প্রতিদিন কতটা জল পান করা নিরাপদ?

সাধারণত, একজন সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লিটার জল পান করা নিরাপদ বলে ধরা হয়। তবে, এই পরিমাণ শারীরিক অবস্থা, পরিবেশ এবং দৈনন্দিন কার্যকলাপের ওপর নির্ভর করে বদলাতে পারে।
ঘণ্টাপ্রতি জল পানের সীমা
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এক ঘণ্টায় ১ লিটারের বেশি জল পান করা উচিত নয়। অতিরিক্ত জল দ্রুত পান করলে শরীরের সোডিয়াম লেভেল কমে যেতে পারে, যা বিপজ্জনক।
পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা পরিমাণ
গবেষণা অনুসারে,
- পুরুষদের জন্য: প্রতিদিন প্রায় ৩.৭ লিটার জল পান করা উচিত।
- মহিলাদের জন্য: প্রতিদিন প্রায় ২.৭ লিটার জল পান করা উপযুক্ত।
জল ছাড়াও অন্যান্য পানীয়ের ভূমিকা
- শুধু জল নয়, শরীরের জলীয় চাহিদা পূরণে অন্যান্য পানীয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন—
- চা ও কফি (অতিরিক্ত না হলে)
- ফলের রস ও দুধ
- স্যুপ ও ডাবের জল
- শাকসবজির রস
এসব পানীয় থেকেও শরীর প্রয়োজনীয় জল পেতে পারে, তবে অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম উপাদানযুক্ত পানীয় এড়ানো ভালো।
অতিরিক্ত জল পানের ক্ষতিকর প্রভাব

- হাইপোন্যাট্রেমিয়া:
অতিরিক্ত জল পান করলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যায়, যা এক ধরনের বিপজ্জনক অবস্থা সৃষ্টি করে। এই সমস্যায় মাথা ঘোরা, বমি ভাব, ক্লান্তি, ঝিমুনি এবং চেতনা হারানোর সম্ভাবনা থাকে।
- মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাস:
অতিরিক্ত জল পান করলে মস্তিষ্কের কোষ ফুলে যেতে পারে, যা কগনিটিভ ফাংশনে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, ফলে মনোযোগ কমে যায়, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে পারে।
- কিডনির ওপর চাপ:
কিডনির কাজ হল শরীর থেকে অতিরিক্ত জল ও লবণ বের করে দেওয়া। বেশি জল পান করলে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যা কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
- প্রাণহানির ঝুঁকি:
খুব দ্রুত এবং অতিরিক্ত পরিমাণে জল পান করলে জল বিষক্রিয়া (Water Intoxication) হতে পারে। এই অবস্থায় রক্তে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে।
কীভাবে সঠিক পরিমাণে জল পান করবেন?
✔ একবারে বেশি জল না পান করে, অল্প অল্প করে সারাদিন জল পান করুন।
✔ তৃষ্ণা লাগলে জল পান করুন, জোর করে জল পান করার দরকার নেই।
✔ গরম বা ঘাম ঝরানোর পর বেশি জল পান করা দরকার হতে পারে, তবে ধীরে ধীরে পান করুন।
✔ যদি কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে, যেমন কিডনি বা হৃদরোগের সমস্যা, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জল পান করুন।
জীবনধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জল পান করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কম জল পান করলে যেমন শরীরের ক্ষতি হয়, তেমনি অতিরিক্ত জল পান করাও ক্ষতিকর হতে পারে। তাই শরীরের চাহিদা অনুযায়ী এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে জল পান করা উচিত।